স্টাফ রিপোর্টার, পেকুয়া :
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের রঙ্গিখালীর পূর্বকূল এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। হঠাৎ করে সড়কের মাঝ বরাবর বড় অংশ দেবে গিয়ে রাস্তা দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়ায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার দুপুরের দিকে সড়কটিতে প্রথমে ছোট আকারের ফাটল দেখা দেয়। পরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ফাটলটি দ্রুত বিস্তৃত হয়ে রাস্তার একটি বড় অংশ ধসে পড়ে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের মাঝখানে গভীর খাদ সৃষ্টি হয়েছে এবং দুই পাশ আলাদা হয়ে গেছে। ফলে মোটরসাইকেল, সিএনজি, অটোরিকশাসহ কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। পথচারীদের চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করেন। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এই রাস্তার ওপর নির্ভরশীল। হঠাৎ রাস্তা ধসে পড়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মরহুম জানে আলমের ছেলে আবু নঈম ও মিরুগং তাদের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সময় রাস্তার পাশ থেকে গভীরভাবে মাটি কেটে নেন। এতে সড়কের নিচের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বৃষ্টি ও মাটি নরম হয়ে যাওয়ার কারণেও সড়কটির ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়ে যেতে পারে। দ্রুত সংস্কার না করলে পুরো সড়কের আরও বড় অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা জানান।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী বলেন, “ব্যস্ততম চলাচলের এ রাস্তাটির পাশ এমনভাবে কাটা হয়েছে, যার কারণে সড়কটিতে বিশাল ফাটল ধরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক ঘটনা। মালিকপক্ষ ইউনিয়ন পরিষদে এসে অঙ্গীকারনামা প্রদান করেছে এবং দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে।”
ঘটনার পর স্থানীয়রা বিকল্প পথে চলাচল শুরু করলেও অনেককেই বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি সংস্কার, ঝুঁকিপূর্ণ অংশে নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
